প্রথম পাতা খবর আইপ্যাক কাণ্ডে সবপক্ষকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের, ২ সপ্তাহে জবাব তলব, ইডির বিরুদ্ধে FIR-এ স্থগিতাদেশ

আইপ্যাক কাণ্ডে সবপক্ষকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের, ২ সপ্তাহে জবাব তলব, ইডির বিরুদ্ধে FIR-এ স্থগিতাদেশ

40 views
A+A-
Reset

আইপ্যাক মামলা ঘিরে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে উত্তপ্ত শুনানি হল। বিচারপতি মনোজ মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি-র ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলে প্রায় গোটা দিন। তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং আইনের শাসন—সব মিলিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে এদিন।

শুনানিতে ইডির তরফে দাবি করা হয়, ২০২০ সালের কয়লা পাচার মামলায় প্রায় ২,০৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢুকেছে। সেই সূত্রেই আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ইডি আরও অভিযোগ তোলে, তল্লাশির সময় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর পালটা সওয়ালে তৃণমূলের তরফে কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভি বলেন, নির্বাচনের আবহে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সিব্বলের প্রশ্ন, “আইপ্যাক একটি রাজনৈতিক দলের ভোটকৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা হলে সেখানে তল্লাশি কেন?” বিচারপতি মিশ্রও মন্তব্য করেন, “কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কোনও দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। তবে আইনসম্মত তদন্তে দলীয় ঢাল দেওয়া চলবে না।”

আদালত শেক্সপিয়র সরণি থানা ও ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স-সহ চারটি এফআইআরে আপাতত স্থগিতাদেশ দেয় এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের গোদরেজ ওয়াটারসাইড বিল্ডিংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। সব পক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।

শুনানি শেষে বাইরে এসে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটের আগে অবিজেপি রাজ্যগুলিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে পাঠানো হচ্ছে।” এই মামলাকে ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত ও নির্বাচনী রাজনীতির চাপানউতোর যে আরও তীব্র হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এদিনের শুনানি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.