হারারে: বড় ম্যাচের বড় খেলোয়াড়— এই প্রবাদটি আবারও প্রমাণ করল বৈভব সূর্যবংশী। শুক্রবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলিং লাইন-আপকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে ভারতকে ষষ্ঠবারের জন্য বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিল সে। হারারের মাঠে বৈভবের বিধ্বংসী ১৭৫ রানের ওপর ভর করে ভারত প্রথমে ৪১১ রানের পাহাড় গড়ে। জবাবে ৩১১ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১০০ রানের দাপুটে জয়ে ফের বিশ্বসেরা ভারত।
বৈভবের অতিমানবিক ইনিংস
ফাইনালে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অ্যারন জর্জের উইকেট হারিয়েছিল ভারত। কিন্তু তিনে নামা অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রের (৫৩) উপস্থিতিতে মাঠ জুড়ে তাণ্ডব শুরু করেন বৈভব। মাত্র ৫৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ৮০ বলের এই ইনিংসে ছিল ১৫টি চার এবং ১৫টি বিশাল ছক্কা। ইংল্যান্ডের কোনও বোলারই বৈভবের আগ্রাসন থামাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১৭৫ রানে যখন তিনি আউট হন, তখন ভারত বিশাল স্কোরের ভিত পেয়ে গিয়েছে। এছাড়া বাঙালি ব্যাটার অভিজ্ঞান কুণ্ডু ৪০ এবং বিহান মলহোত্র ৩০ রান করেন।
বিশ্বকাপের অপ্রতিরোধ্য দাপট
এই জয়ের ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপা জিতে নিল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে এটি ভারতের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয় (মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দুটি, মেয়েদের ওয়ানডে একটি এবং ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)। একসময় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলায় এই অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিসিসিআই-এর তৎপরতায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ খেলে বিশ্বকাপের জন্য নিজেদের নিখুঁতভাবে তৈরি করে নিয়েছিল ভারতীয় যুব দল।
ইংল্যান্ডের লড়াই ও ব্যাটিং বিপর্যয়
৪১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরুটা ভালোই করেছিল। বেন ডকিন্স (৬৬) এবং বেন মায়েস (৪৫) প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে মাত্র ৯ বলের ব্যবধানে ৪টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ব্রিটিশরা। দীপেশ দেবেন্দ্রন ও আর এস অম্বরীশ নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসেন। শেষের দিকে সেলেব ফ্যালকনার ১১৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমালেও ভারতের জয় আটকাতে পারেননি।
এই জয়ের ফলে ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের একাধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো। বৈভব সূর্যবংশীর এই আগ্রাসী ইনিংস অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিসেবে লেখা থাকবে।