প্রথম পাতা খবর ৬ বছর পর খুলছে বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু বর্ণাঢ্য উৎসব

৬ বছর পর খুলছে বিষ্ণুপুরের ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু বর্ণাঢ্য উৎসব

16 views
A+A-
Reset

বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়ার মল্লভূমের ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী ডিহর গ্রামের ষাঁড়েশ্বর মন্দির। দীর্ঘ ছয় বছর সংস্কারের কারণে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকার পর, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ফের সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে এই প্রাচীন শৈবতীর্থ। মন্দির শুদ্ধিকরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হবে এক বিশাল ধর্মীয় কর্মযজ্ঞ।

আড়াই হাজার মহিলার কলস যাত্রা ও যজ্ঞ

১৮ ফেব্রুয়ারি মন্দির চত্বর শুদ্ধ করতে দ্বারকেশ্বর নদ থেকে জল আনবেন বিষ্ণুপুর শহর ও ব্লকের প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার মহিলা। তারকেশ্বর মন্দিরের মহারাজ এবং বেনারস থেকে আসা ২০ জন ব্রাহ্মণের উপস্থিতিতে সুসম্পন্ন হবে শুদ্ধিকরণ ও ভূমি যজ্ঞ। মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ‘মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ’। ওইদিন প্রায় ৪০ হাজার ভক্তের জন্য খিচুড়ি প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইতিহাস ও সংস্কারের লড়াই

১৩৪৬ সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম মল্লরাজা পৃথ্বী মল্ল ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে এটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র অধীনস্থ। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কানানদীর জলের ঝাপটা এবং ভূমিকম্পের কারণে মন্দিরের ভিত্তিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ২০২০ সাল থেকে ওড়িশার দক্ষ কারিগরদের দিয়ে শুরু হয় সংস্কারের কাজ। পুরনো পাথর খুলে, পালিশ করে পুনরায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বসানোর ফলে মন্দিরটি এখন তার পুরনো জৌলুস ফিরে পেয়েছে।

ফিরছে গাজনের ঐতিহ্য

গত ছয় বছর ধরে মন্দিরের মূল শিবলিঙ্গে কেবল পুরোহিতরাই নিত্যপুজো করতেন। সংস্কার চলায় গাজন উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছিল পার্শ্ববর্তী শৈলেশ্বর মন্দিরে। মন্দির কমিটির ক্যাশিয়ার শম্ভুনাথ কর জানিয়েছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাবা ভৈরবকে শৈলেশ্বর মন্দির থেকে পুনরায় ষাঁড়েশ্বর মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে। ফলে এই বছর থেকে চৈত্র মাসের ঐতিহ্যবাহী গাজন উৎসব ফের ষাঁড়েশ্বর মন্দির চত্বরেই অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে মন্দিরের পাঁচিল নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। দীর্ঘ ছ’বছর পর মন্দির খোলার সংবাদে খুশির হাওয়া মল্লভূমের ভক্ত ও ইতিহাসপ্রেমী মহলে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.