নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূল সাংসদদের সই করতে আপত্তি নেই। তবে তার আগে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটভুক্ত দলগুলির যৌথ বিবৃতি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মানার শর্ত দিয়েছেন তিনি।
‘কংগ্রেস বললেই সই নয়’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেস যে পথে বলবে, তৃণমূল সেই চোখ বুজে সেই পথে হাঁটবে না। তাঁর কথায়, “স্পিকারের বিরুদ্ধে যে চারটি বিষয়ের ভিত্তিতে অনাস্থা আনা হচ্ছে, তা নিয়ে আগে একটি যৌথ চিঠি দেওয়া হোক। তিন দিন সময় দেওয়া হোক স্পিকারকে। তিনি সদুত্তর না দিলে তবেই শুক্রবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হোক।” কংগ্রেসের ৮ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিও ওই চিঠিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
‘নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য এখানেই’
তড়িঘড়ি অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিরোধিতা করে অভিষেক এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভুল করলে সংশোধন করার সুযোগ দিতে হবে। এটাই তো নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।” তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা, যদি তিন দিন সময় দিয়ে নিয়ম মেনে প্রস্তাব আনা হয়, তবেই তৃণমূল সই করবে। অন্যথায় মঙ্গলবারই তড়িঘড়ি প্রস্তাবে সই করবে না ঘাসফুল শিবির।
নেপথ্যে কি ইমপিচমেন্ট বিতর্ক?
জাতীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের এই শর্ত দেওয়া অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী। চলতি বাজেট অধিবেশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য সলতে পাকাচ্ছিল তৃণমূল। কিন্তু কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী সেই বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ দেখাননি বলে খবর। ফলে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের প্রশ্নে শর্ত চাপিয়ে অভিষেক কার্যত কংগ্রেসকে বার্তা দিলেন যে, বিরোধী জোটের সমীকরণ কেবল একতরফা হবে না।
এই কৌশলী অবস্থানের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্ব বজায় রাখলেন, তেমনই সংসদে তৃণমূলের স্বাধীন অস্তিত্ব ও নেতৃত্বের দাবিকেও জোরালো করলেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।