নিজস্ব প্রতিবেদন, উত্তর ২৪ পরগনা: এক সময় তাঁর কথায় বাঘে-গরু এক ঘাটে জল খেত। উত্তর ২৪ পরগনার শাসন থেকে বারাসত ২ নম্বর ব্লক— মজিদ মাস্টার মানেই ছিল শেষ কথা। বাম জমানার সেই দাপুটে সিপিএম নেতা মজিদ মাস্টারের মুখেই এবার শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, “বিজেপিকে আটকাতে পারে একমাত্র তৃণমূল, তাই আগামী বিধানসভাতেও তৃণমূলকেই ভোট দেব।”
দাপুটে অতীত থেকে রাজনীতিতে অবসর: বারাসত ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থেকে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ— মজিদ মাস্টারের রাজনৈতিক কেরিয়ার ছিল বর্ণময় ও বিতর্কিত। খুন, সন্ত্রাস এবং ভেড়ির দখলদারির একাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১১-র আগে বাম আমলেই তিনি গ্রেফতার হন। ২০১৬ সালে সিপিএম ছেড়ে রাজনীতি থেকে কার্যত অবসর নেন ৮০ পেরোনো এই নেতা। বর্তমানে পড়াশোনা আর চাষবাস নিয়ে সময় কাটালেও, ভোটের আগে তাঁর এই আনুগত্য বদল নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
তৃণমূল প্রেম ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রশংসা করে মজিদ মাস্টার জানান, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ খুবই জনপ্রিয় এবং ভালো প্রকল্প। তাঁর কথায়, “বিজেপিকে আটকাতে পশ্চিমবঙ্গে এখন তৃণমূল ছাড়া আর কেউ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, আমি তাকে সমর্থন করি। বলতে দ্বিধা নেই, ২০২১ সাল থেকেই আমি তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছি।”
বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটকে তোপ: নিজের প্রাক্তন দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন মজিদ। তাঁর মতে, আইএসএফ একটি সাম্প্রদায়িক দল এবং বামেদের সাথে তাদের আঁতাঁত শোভা পায় না। পাশাপাশি যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে সিপিএম প্রাসঙ্গিক হয়েছে, তাদের সাথেই জোট করার বামপন্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সরাসরি বলেছেন, “ওদের আমি বামপন্থী বলেই ভাবি না।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মজিদ মাস্টারের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক পলাশ দাস সরাসরি বিরোধিতার কথা জানালেও, হাড়োয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবিউল ইসলাম মনে করিয়ে দিয়েছেন মজিদ মাস্টারের পুরনো ইতিহাসের কথা। তাঁর দাবি, মানুষ জানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই শাসনে শান্তি ফিরেছে।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন