আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র ও বিচারপতি সঞ্জীব মেহতার বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৮ মার্চ। টানা তিন বার পিছোল এই মামলার শুনানি।
কেন পিছোল শুনানি?
গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম শুনানির দিন ধার্য ছিল। সে সময় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আদালতে জানায়, রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার কথাও জানায় তারা। আদালত সেই আবেদন মেনে এক সপ্তাহ সময় দেয়।
পরবর্তী শুনানি ১০ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা থাকলেও সে দিন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল অসুস্থ থাকায় শুনানি স্থগিত হয়। বুধবার আবার মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল আদালতে জানান, রাজ্যের বক্তব্যের পাল্টা জবাব প্রস্তুত থাকলেও তা এখনও আদালতে জমা পড়েনি। বুধবারের মধ্যেই তা জমা করা হবে বলে জানানো হয়। এরপরই প্রায় এক মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ নতুন তারিখ ঘোষণা করে বেঞ্চ।
মামলার প্রেক্ষাপট
গত ৮ জানুয়ারি কয়লাপাচার সংক্রান্ত তদন্তে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশি চলাকালীন সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তদন্তে বাধা এবং নথি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ইডি। পাল্টা রাজ্য সরকারও আদালতের দ্বারস্থ হয়। ১৫ জানুয়ারির শুনানিতে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, ইডির বিরুদ্ধে মামলাকারী পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। ২ ফেব্রুয়ারি সেই হলফনামা জমা দেয় রাজ্য।
হলফনামায় রাজ্যের দাবি, ইডির এই মামলা দায়ের করার মৌলিক অধিকার নেই। তল্লাশি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, যথাযথ নিয়ম মেনে অভিযান চালানো হয়নি এবং আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এখন নজর ১৮ মার্চের শুনানির দিকে। ইডির পাল্টা হলফনামা আদালতে জমা পড়ার পরেই মামলার মূল বিতর্কে ঢুকবে বেঞ্চ। রাজনৈতিক মহলেও এই মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।