প্রথম পাতা খবর রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ সম্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, জন্মতিথির শ্রদ্ধাবার্তায় ‘ভুল’, কটাক্ষ তৃণমূলের

রামকৃষ্ণদেবকে ‘স্বামী’ সম্বোধন প্রধানমন্ত্রীর, জন্মতিথির শ্রদ্ধাবার্তায় ‘ভুল’, কটাক্ষ তৃণমূলের

23 views
A+A-
Reset

ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নতুন বিতর্কে জড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ করা একটি পোস্টে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করেন। যা ঘিরে তৎক্ষণাৎ রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়, “স্বামী রামকৃষ্ণ পরমহংসজির জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধাঞ্জলী…”—এমনই বক্তব্য ছিল বার্তায়। আধ্যাত্মিক ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়।

মোদীর এমন সম্বোধনে স্তম্ভিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঙালি মনীষীদের নামের সঙ্গে নতুন নতুন ‘উপসর্গ’ এবং ‘প্রত্যয়’ প্রয়োগ না করার জন্য মোদীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ দিন রামকৃষ্ণদেবের জন্মতিথিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী । সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর এহেন সম্বোধনের তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি লেখেন, “আমি স্তম্ভিত! প্রধানমন্ত্রী আবার পশ্চিমবঙ্গের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতা দেখালেন। আজ যুগাবতার (ঈশ্বরের বর্তমান যুগের অবতার) শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথি। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাঁর নামের সঙ্গে এক অনুপযুক্ত এবং অভূতপূর্ব উপসর্গ ‘স্বামী’ জুড়ে দিয়েছেন।”

রামকৃষ্ণদেবের নামের আগে ‘স্বামী’ শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তোলে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, “স্বামী শব্দটি এখানে ব্যবহারের নয়। ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি বাংলা এবং বাংলার প্রণম্যদের সম্পর্কে অবগত নন।”

কুণাল ঘোষের দাবি, মিশন ও মঠের সন্ন্যাসীদের নামের আগে ‘স্বামী’ ব্যবহার প্রচলিত হলেও রামকৃষ্ণদেবের ক্ষেত্রে সাধারণত ‘ঠাকুর’ সম্বোধনই ব্যবহৃত হয়। তিনি অবিলম্বে পোস্ট সংশোধনের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ঘটনার পর ফের এমন বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মুখে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। তবে এই ধরনের ভুল বঙ্গ রাজনীতিতে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলেই মত একাংশের।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.