বাংলা সাহিত্যে আর এক যুগের অবসান। প্রয়াত বর্ষীয়ান সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়, যিনি পাঠকমহলে ‘শংকর’ নামেই অধিক পরিচিত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাসে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচারের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শারীরিক দুর্বলতা কাটেনি পুরোপুরি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে জীবনাবসান ঘটে তাঁর।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তাঁর খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়ছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হল না।
জন্ম থেকে সাহিত্যযাত্রা
১৯৩৩ সালের ৭ ডিসেম্বর অধুনা বাংলাদেশের যশোহর জেলায় জন্ম শংকরের। তাঁর বাবা হরিপদ মুখোপাধ্যায় পেশায় আইনজীবী ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পরিবার কলকাতায় চলে আসে এবং পরে হাওড়ায় বসবাস শুরু করে। সেখানেই তাঁর শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্যরচনার প্রধান উপাদান হয়ে ওঠে।
১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম গ্রন্থ। ধীরে ধীরে বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব ভঙ্গিতে জায়গা করে নেন তিনি।
কালজয়ী সৃষ্টি
শংকরের সাহিত্যকীর্তির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য চৌরঙ্গী, যা বাংলা উপন্যাসে শহুরে জীবনের এক অনন্য দলিল। পাশাপাশি সীমাবদ্ধ, জন অরণ্য, কত অজানারে, চরণ ছুঁয়ে যাই এবং অচেনা অজানা বিবেকানন্দ—প্রতিটি গ্রন্থই পাঠকমনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
তাঁর লেখায় মধ্যবিত্ত সমাজের স্বপ্ন, সংগ্রাম, নৈতিক সংকট ও বাস্তবতার টানাপোড়েন অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সাহিত্যের পাশাপাশি তাঁর একাধিক রচনা চলচ্চিত্রায়িতও হয়েছে, যা বাংলা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
শংকরের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাহিত্যিকমহল, পাঠকসমাজ ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। তাঁর সাহিত্যভাণ্ডারই আগামী দিনে তাঁর স্মৃতিকে বহন করে নিয়ে যাবে—এমনটাই মত অনুরাগীদের।