প্রথম পাতা খবর দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ভোট ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল কমিশন

দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে ভোট ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, সীমান্তে নজরদারি বাড়াল কমিশন

11 views
A+A-
Reset

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:

বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে শুরু করে ‘ক্রিটিক্যাল বুথ’—সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট নিশ্চিত করা যায়।

প্রশাসন সূত্রে খবর, দার্জিলিং জেলার ইন্দো-নেপাল ও ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ-বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্তেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেনা ও আধাসেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। দার্জিলিং জেলায় ৫০ কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছেছে, আরও কয়েকটি কোম্পানি আসার কথা রয়েছে। কালিম্পং জেলাতেও ইতিমধ্যেই সাত কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছেছে।

জেলায় ‘স্পর্শকাতর’, ‘শ্যাডো জ়োন’ ও ‘ক্রিটিক্যাল বুথ’ চিহ্নিত করে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। দার্জিলিংয়ে মোট ১৯৩টি ক্রিটিক্যাল বুথ রয়েছে, যেখানে গতবার তুলনামূলক কম ভোট পড়েছিল। সেই বুথগুলিতে ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে।

পাহাড়ি এলাকার ভৌগলিক চ্যালেঞ্জও মাথায় রাখছে নির্বাচন কমিশন। দার্জিলিঙের শ্রীখোলা এলাকায় একটি দুর্গম বুথ রয়েছে, যেখানে ভোটকর্মীদের দু’দিন আগে রওনা দিতে হবে। এছাড়া, মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বেশ কিছু জায়গায় ওয়েবকাস্টিংয়ে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা। সেই সব ক্ষেত্রে ভিডিও রেকর্ডিং, স্যাটেলাইট ফোন ও আরটি সেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দার্জিলিং জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন। এর জন্য ১৪৬৫টি বুথ এবং ৫২টি সহায়ক কেন্দ্র রাখা হয়েছে। কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৯৩১ জন এবং সেখানে ২৯৩টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে।

এ বারও দার্জিলিংয়ে ৩৬টি এবং কালিম্পঙে চারটি ‘পিঙ্ক বুথ’ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, জেলায় ৩৪টি জায়গায় নাকাতল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং কুইক রেসপন্স টিম ও মোবাইল টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।

দার্জিলিঙের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল জানিয়েছেন, “৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ নিয়ে যাওয়া যাবে না। মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।” অন্যদিকে, কালিম্পঙের জেলাশাসক কুহুক ভূষণ জানান, “প্রত্যেক বুথে ওয়েবকাস্টিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, এবং চার জন করে ভোটকর্মী নিয়োজিত থাকবেন।” সব মিলিয়ে, পাহাড়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনায় কোনও খামতি রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.