বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির জনসভা থেকে তিনি সরাসরি মা-বোনেদের বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মমতা বলেন, “এসআইআর-এর বদলা একটা করে ভোট।” তিনি আরও আহ্বান করেন, ভোটের দিন সকাল থেকেই বুথ পাহারা দেওয়ার জন্য। তাঁর অভিযোগ, বাইরের লোক এনে ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হতে পারে। “পাঁচ বছরের শান্তির জন্য এক দিনের পাহারা দরকার,”—এভাবেই কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তিনি বাহিনীকে সম্মান জানান, তবুও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে। বাঁকুড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির পতাকা নিয়ে চলার অভিযোগও তোলেন তিনি।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি নিয়েও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। তাঁর দাবি, নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাঁকে না জানিয়ে একের পর এক আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভ্রাট নিয়েও সরব হন মমতা। দাবি করেন, তাঁর নিজের নামও ‘সন্দেহের তালিকায়’ চলে গিয়েছিল। এই ঘটনায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “হ্যাকিং হয়েছে না অন্য কিছু, তা পরিষ্কার করতে হবে।”
এসআইআর এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ইস্যু নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনে তৃণমূল আইনি সহায়তা দেবে এবং ক্যাম্প করে আবেদন করার ব্যবস্থা করবে।
সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও বুকিংয়ের নিয়ম নিয়ে বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সব ধর্মকে নিয়ে চলে। সব উৎসব আমাদের উৎসব।” নির্বাচনের আগে এই সভা থেকে মমতার একাধিক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।