পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর অন্তঃশুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রলের উপর শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়, আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে তা একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কি সরাসরি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমবে? বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য তেমন স্বস্তি নাও আসতে পারে। মূলত দেশের তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির (ওএমসি) ক্ষতি কমাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত দেশে পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বাড়ানো হয়নি, তবুও সেই চাপ সামলাতে সরকার শুল্ক কমিয়েছে। ফলে সরাসরি দাম কমার বদলে সংস্থাগুলির আর্থিক ক্ষতি কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েল সংঘাতের পর হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার বার বার আশ্বস্ত করেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল ও গ্যাস মজুত রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মজুত তেল দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। পাশাপাশি আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো দেশ থেকে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ লক্ষ মেট্রিক টন গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। তবে সাধারণ মানুষের পকেটে এর সরাসরি প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে।