ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এসআইআর মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, বুধবারের মধ্যেই সমস্ত প্রাক্তন বিচারপতিকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তাঁদের অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ আপডেট জানাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আপিল ট্রাইবুনালগুলি যেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দেওয়া রিপোর্ট ও কারণ সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে দেখে তবেই মামলার নিষ্পত্তি করে। আদালত আরও জানায়, যে নথি আগে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সামনে পেশ করা হয়নি, সেই নতুন নথি সহজে গ্রহণ করা যাবে না। নথির সত্যতা যাচাই না করে কোনওভাবেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, “যথাযথ যাচাই ছাড়া নতুন নথি গ্রহণ করা উচিত নয়।”
এদিন আদালতে জানানো হয়, প্রথমে ৭ এপ্রিল শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও পরে তা এগিয়ে ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টেয় করা হয়েছে। কমিশনের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তন করা হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন—তাই নিষ্পত্তির সময়সীমা এগিয়ে আনা প্রয়োজন।
ফর্ম ৬ জমা নিয়ে বিতর্কও উঠে আসে শুনানিতে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, একজন ব্যক্তি প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি অবশ্য বলেন, “এই ধরনের অভিযোগ প্রায় প্রতি বারই ওঠে, নতুন কিছু নয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপত্তি তুলুন।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, ভোটার তালিকা নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই নির্বাচন প্রক্রিয়া চলে। পরে ফর্ম ৬ জমা দিলেই কেউ সঙ্গে সঙ্গে ভোটাধিকার পাবেন, এমন নয়।
কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, আইনের অনুচ্ছেদ ২৩ অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কেউ ১৮ বছরে পা দিলেই তাঁর ভোটার হওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না।
একই সঙ্গে আদালতে বলা হয়, কারও নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লেও তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া মেনে তিনি পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। ফর্ম ৬ সংক্রান্ত যে কোনও আপত্তি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, ফর্ম ৭ জমা দিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগও রয়েছে বলে জানানো হয়।