এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন ভোটদানের ছবি সামনে এল। বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল ভোট কি মতুয়া সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বনগাঁ মহকুমার প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অভিযোগ, এই তালিকার বড় অংশই উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে ভোটের আগে থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হয়েছিল।
বাগদার বাসিন্দা হর্ষিত বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি মিললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে বনগাঁ দক্ষিণের বাসিন্দা সুপর্ণা রায়ের অভিযোগ, সমস্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার প্রতিবাদ ভোটের মাধ্যমে জানিয়েছেন বলে দাবি।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই উচ্চ ভোটদানের হার আসলে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হবে এবং ভোটে সমর্থন তাদের দিকেই রয়েছে।
সব মিলিয়ে বনগাঁ মহকুমার এই উচ্চ ভোটদানের হারকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বাস্তবে এই ভোট কোন দিকে গিয়েছে—তা স্পষ্ট হবে ফল ঘোষণার দিন, ৪ মে। কলকাতা-সহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই।