পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রশাসনিক ইনিংস শুরু করলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমবার নবান্নে পৌঁছনোর সময় তাঁকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। এরপরই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি।
সকালে চিনার পার্কের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রথমে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-র বাড়িতে যান শুভেন্দু। সেখানে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা ফুল ও মালা দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে শমীককে সঙ্গে নিয়েই সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দপ্তরে পৌঁছন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় কার্যালয় সেজে উঠেছিল বিশেষ সাজে। ২০৭টি পদ্মফুলের মালা, বরণডালা ও কুলো হাতে শুভেন্দুকে বরণ করেন মহিলা কর্মীরা। সেখানে একপ্রস্থ সাংগঠনিক বৈঠকও করেন তিনি।
এরপর নবান্নে পৌঁছে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৪ তলায় নিজের দপ্তরে যান তিনি। ইতিমধ্যেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রীরা— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, অশোক কীর্তনীয়া এবং নিশীথ প্রামাণিক। নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক ঘিরে নবান্নে ছিল তৎপরতা।
সূত্রের খবর, সোমবার মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রথমে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে প্রশাসনিক বৈঠক, পরে জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিকেলে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ বিভিন্ন জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারা। এর আগে রবিবার থেকেই নবান্নে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ ও হাওড়া পুলিশের শীর্ষকর্তারা নবান্নে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককক্ষ, প্রবেশপথ এবং গোটা প্রশাসনিক ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা করা হয়।