বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সিএএ-র আওতায় না থাকা কোনও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাঁকে আদালতে পেশ করার প্রয়োজন নেই। সরাসরি সীমান্তে পাঠিয়ে দিতে হবে।
পুলিশ ও আরপিএফ-কে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিএএ-র আওতায় পড়েন না এমন বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাঁকে কোর্টে পাঠাবেন না। ভাল করে খাওয়াদাওয়া করিয়ে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে, নইলে বসিরহাটে বিওপি-র কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।”
দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হাওড়াকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন হাওড়া স্টেশন দিয়ে। তাই সেখানে কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
শুধু তাই নয়, প্রতি সপ্তাহে কত জন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছেন, তার বিস্তারিত রিপোর্টও চেয়েছেন শুভেন্দু। ডিজিপি মারফত সেই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ শরণার্থীর মর্যাদা পান। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আসা এই ছ’টি জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠানো হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গত বছর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল।
বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেও শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, যাঁরা সিএএ-র আওতায় পড়েন না, তাঁদের পাকড়াও করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো নির্দেশিকা পূর্বতন সরকার কার্যকর করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্ব থেকেই বিজেপি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে শুরু করেছে শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।