যেদিকে চোখ যায়, শুধুই জল। চাষের জমি থেকে বসতবাড়ি—গঙ্গার ভাঙন ও প্লাবনে সর্বস্ব হারিয়েছেন মালদহের ভুতনি এলাকার বহু মানুষ। এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণশিবিরে, আবার কেউ মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন। পুজোর মুখে কার্যত উৎসবের আমেজ থেকে বিচ্ছিন্ন বানভাসি এলাকার বাসিন্দারা।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে মালদহে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে রতুয়া থেকে হেলিকপ্টারে ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। প্রায় ২০ মিনিটের আকাশপথের যাত্রায় বিপর্যস্ত এলাকার ছবি মোবাইলে ধারণ করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মানিকচকে পৌঁছে দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন শুভেন্দু। তাঁদের উদ্দেশে সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুর্দশা থেকে স্থায়ী মুক্তির অঙ্গীকার তিনি করে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর রতুয়া, মানিকচক ও ইংরেজবাজারের ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মালদহে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৪,৫৯৫টি বাড়ি মেরামতির জন্য পরিবারপিছু ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২,৩৪০টি পরিবারকে ৯০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
পুজোর আগে দুর্গতদের জন্য বিশেষ ত্রাণের ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ হাজার পরিবারের হাতে পোশাক, মশারি ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ২১টি সরকারি ত্রাণশিবির থেকে প্রতি পাঁচ দিন অন্তর ত্রাণ দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
দুর্গতদের রান্না করা খাবার পৌঁছে দিতে ২৫টি কমিউনিটি কিচেন চালানোর কথাও জানানো হয়েছে। শুধু মানুষের জন্য নয়, বন্যাকবলিত এলাকায় গবাদি পশুর জন্যও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
তবে ত্রাণ ও ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি মালদহের গঙ্গাভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুজোর মাত্র এক সপ্তাহ আগে যখন গোটা রাজ্য উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন ভুতনির বহু পরিবারের কাছে ঘর, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় জোগাড় করাই হয়ে উঠেছে প্রধান চিন্তা।