প্রথম পাতা খবর ধর্মের সঙ্গে বাজি ফাটানোর সম্পর্ক কী? দূষণ মামলায় ভারসাম্যের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

ধর্মের সঙ্গে বাজি ফাটানোর সম্পর্ক কী? দূষণ মামলায় ভারসাম্যের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

14 views
A+A-
Reset

উৎসবের মরশুমে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বাজি ফাটানোর সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত জানাল, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রেখেই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কেবল কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত দায়িত্ববোধের উপরেও জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে দিল্লি-এনসিআর এলাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, উৎসব পালন বা উপাসনা ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ হতে পারে, কিন্তু বাজি ফাটানোকে ধর্মীয় অধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা যায় না।

‘ধর্মের সঙ্গে আতশবাজির সম্পর্ক কী?’

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ধর্মের সঙ্গে আতশবাজির সম্পর্ক কী?’’ সরকার পক্ষের আইনজীবীরাও যুক্তি দেন, বাজি ফাটানো ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের অংশ নয়। ঈশ্বরের আরাধনা ধর্মীয় বিশ্বাসের অঙ্গ হতে পারে, কিন্তু বাজি পোড়ানোকে সেই একই পর্যায়ে রাখা যায় না বলে তাঁদের বক্তব্য।

মামলায় আদালতের অ্যামিকাস কিউরি তথা সহায়ক আইনজীবী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট অপরাজিতা সিং বলেন, বাজি ফাটানো ধর্মীয় প্রথা— এই যুক্তি প্রতি বছরই সামনে আনা হয়। তাঁর বক্তব্য, ঈশ্বরের নামে বাজি ফাটানোর কারণে যদি শিশুরা অসুস্থ হয় এবং কষ্ট পায়, তা হলে সেই প্রথা নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

ধর্মীয় অনুভূতি ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, আদালত কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে চায় না। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বয়স্কদের স্বাস্থ্যের উপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।

বাজি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে উৎসবের আবেগ এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে শুনানিতে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেবল কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই নাগরিকদের আচরণে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না। অনেক ক্ষেত্রে তার উল্টো প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়ার আহ্বান

উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে নাগরিকদের স্বেচ্ছায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প, যেমন গ্রিন ক্র্যাকার্স বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনকে প্রচারমূলক সামগ্রী প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেও কী ভাবে দূষণ কমানো যায়, সেই সচেতনতা গড়ে তোলাই আদালতের বার্তার মূল লক্ষ্য। ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান এবং পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব— দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে নাগরিকদের এগিয়ে আসার উপরেই গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.