ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহলের উন্নয়ন এবং লোধা-শবর জনজাতির মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝরিয়া গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আরও ৬৫ হাজার ১৪০টি বাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে সৌর প্যানেল, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়ন—একাধিক বিষয়ে ঘোষণা করা হয়েছে।
আবাস যোজনায় আরও ৬৫,১৪০টি বাড়ি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় আরও ৬৫ হাজার ১৪০টি নতুন বাড়ি তৈরি করা হবে। প্রতিটি বাড়ির জন্য দেওয়া হবে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি, শৌচালয় নির্মাণের জন্য ১২ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
টিভি রামজি প্রকল্পের মাধ্যমে আরও বেশি কাজের সুযোগ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় সৌর প্যানেল দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
এদিন আগের সরকারের আমলে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভুয়ো উপভোক্তা দেখিয়ে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকী, গোয়ালঘরকে বাড়ি হিসেবে দেখিয়েও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন তিনি।
জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় মুর্মু ও মাহাতো সম্প্রদায়ের মানুষকে দেখলেই মাওবাদী তকমা দেওয়া হত। তাঁর বক্তব্য, অতীতে মানুষকে ভোট দিতে যেতে নিরুৎসাহিত করা হত। ২০০৯ সালে ওই এলাকায় মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাস্তা, আলো ও কমিউনিটি হল তৈরির পরিকল্পনা
জঙ্গলমহলের পরিকাঠামো উন্নয়নে রাস্তা, কালভার্ট, হাইমাস্ট আলো এবং কমিউনিটি হল তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ‘করছো গ্রাম’ প্রকল্প নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। মহিলাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
সরকার যে ঝাড়গ্রাম ও জঙ্গলমহলের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সে কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আইসিডিএস কর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।
বার্ধক্য ভাতা বৃদ্ধি, আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, তফসিলি জাতির মানুষের বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়াও আদিবাসী শিক্ষার প্রসারে পৃথক আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে, লোধা-শবর জনজাতির মানুষের উন্নয়ন, আবাসন, কর্মসংস্থান, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা এবং জঙ্গলমহলের পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ও সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।