বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার স্থান এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশাখাপত্তনম উপকূলের দিকে এগোতে পারে ঘূর্ণিঝড়
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোতে পারে। বিশাখাপত্তনমের কাছে সম্ভাব্য ল্যান্ডফলের কথা উঠে এলেও, স্থলভাগে আছড়ে পড়ার নির্দিষ্ট স্থান এখনও নিশ্চিত নয়। ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি কতটা হবে, তা-ও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
স্থলভাগে প্রবেশের পর শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও আবহাওয়াবিদদের একাংশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর প্রভাব ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড ও বিহার হয়ে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে পরবর্তী আবহাওয়া বুলেটিনে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দক্ষিণবঙ্গে ২৭ অক্টোবর থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাপ্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ১ নভেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা ঝোড়ো হাওয়া, আবার কোথাও বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতায় ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার হতে পারে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমে বৃষ্টির দাপট তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
২৭ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে সামগ্রিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে নিম্নচাপের শক্তি ও গতিপথের পরিবর্তনের উপর।
উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা
উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের আবহাওয়া নিয়ে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে দার্জিলিং ও সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সিকিমের উঁচু এলাকা এবং সান্দাকফু অঞ্চলে মরসুমের প্রথম দিকের তুষারপাতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
নজর আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনে
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তার শক্তি কতটা বাড়বে এবং কোথায় স্থলভাগে প্রবেশ করবে—এই বিষয়গুলি এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তাই আগামী কয়েক দিনে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকা জেলাগুলির বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।