প্রথম পাতা খবর লক্ষ্মীপুজোর বাজারে আগুন! সবজি ও পুজোর সামগ্রীর চড়া দামে নাজেহাল ক্রেতারা

লক্ষ্মীপুজোর বাজারে আগুন! সবজি ও পুজোর সামগ্রীর চড়া দামে নাজেহাল ক্রেতারা

8 views
A+A-
Reset

কলকাতা: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে বাজারে কার্যত আগুন। পুজোর উপকরণ থেকে শুরু করে আনাজপাতি, সব কিছুরই দাম নিয়ে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার—বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে খরচ সামলানোর চাপ স্পষ্ট। পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বহু পরিবার। বিশেষ করে খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে দর কষাকষি চলেছে। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। অন্য দিকে, কলকাতার বাজারদর সংক্রান্ত অনলাইন তথ্যেও একাধিক সবজির চড়া দামের ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে পুজোর আগে বাজার করতে গিয়ে বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককেই।

কলকাতার বাজারেও চড়া সবজির দাম

কলকাতার ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের অনলাইন বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, টমেটোর দাম কোথাও কেজি প্রতি ১১৫ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। বেগুনের দাম প্রায় ১৩০ টাকা এবং কাঁচালঙ্কার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন বাজারদর-তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফুলকপির দামও তালিকাভেদে প্রায় ৩১ থেকে ৫০ টাকা কেজি। তবে বাজার ও বিক্রির ধরন অনুযায়ী দামে পার্থক্য থাকতে পারে। 

কলকাতার শিয়ালদহ কোলে মার্কেটের ২৩ অক্টোবরের পাইকারি বাজারদরের তালিকাতেও বেগুনের দাম কুইন্টাল প্রতি ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা, ফুলকপি ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা এবং কাঁচালঙ্কা ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ পাইকারি বাজারেও একাধিক সবজির দাম বেশ চড়া। খুচরো বাজারে পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের আরও বেশি দাম দিতে হতে পারে। 

ধানের শিষ থেকে প্রদীপ, সবেতেই চড়া দাম

লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ধানের শিষ। কিন্তু উত্তরবঙ্গের বাজারে এ বার একটি ধানের শিষ কিনতেই খরচ হচ্ছে পাঁচ টাকা। পাঁচ গ্রাম ওজনের পঞ্চশস্যের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। সরু কাগজের মালা এবং চাঁদমালার দাম ২৫ টাকা করে। আলপনার জন্য ছোট এক টুকরো খড়িমাটির দাম ১০ টাকা। লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের স্টিকার কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

শুধু তাই নয়, দু’টি সলতে-সহ একটি মাটির প্রদীপের দাম ১০ টাকা। পুজোর ঘট বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। ছোট ডাবের দাম ২৫ টাকা। একটি আখ কিনতে খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ফলে পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতেই বাজেটের বড় অংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে। 

খিচুড়ি ভোগের আয়োজনেও বাধা সবজির দাম

লক্ষ্মীপুজোয় খিচুড়ি ভোগের আয়োজন বহু পরিবারের দীর্ঘদিনের রীতি। কিন্তু এ বার সবজির দাম সেই আয়োজনেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটল, মুলো, গাজর, শিম থেকে ঝিঙে—প্রায় সব সবজির দামই চড়া।

শুক্রবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারে পটল বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বেগুনের দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। কাঁচালঙ্কার দাম পৌঁছেছে ১২০ টাকা কেজিতে।

মহালয়ার আগে যে বরবটি ৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছিল, লক্ষ্মীপুজোর বাজারে তার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। শসাও বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। ফলে বাজারে গিয়ে পছন্দের সবজি কিনতে দু’বার ভাবতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষ, জোগান কম থাকায় বাড়ছে দাম

সবজির এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিতে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বাজারে জোগান কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীরা। শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটের এক সবজি বিক্রেতার কথায়, স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। বাইরের বাজার থেকে বেশি দামে সবজি আনতে হচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে খুচরো বাজারেও।

ফুলেশ্বরী বাজারের এক ব্যবসায়ীও জানান, বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সবজির আমদানি কম। ফলে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে তাঁদের। পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পর খুচরো বাজারে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।

পুজোর বাজেটে কাটছাঁট মধ্যবিত্তের

বাজারে গিয়ে কার্যত দিশাহারা ক্রেতারা। শিলিগুড়ির ভারতনগরের এক বাসিন্দার বক্তব্য, বাজারে তুলনামূলক সস্তা বলতে এখন আলু। অন্য কোনও সবজি কিনতে গেলেই পকেটে টান পড়ছে। প্রতি বছরের মতো এ বারও লক্ষ্মীপুজোয় খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করার ইচ্ছা থাকলেও বাড়তি খরচ নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

বিধান মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা এক গৃহবধূর কথাতেও একই আক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য, শুধু সবজি নয়, পুজোর মালা, প্রদীপ, ঘট—সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে সামগ্রী কিনতে হচ্ছে।

পুজোর আগে বাজারের এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সীমিত আয়ের পরিবারগুলি। এক দিকে ঐতিহ্য মেনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনের ইচ্ছা, অন্য দিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর চড়া দাম। দুইয়ের টানাপোড়েনে অনেকেই পুজোর আয়োজন ছোট করে ফেলছেন। বাজারের দাম আরও বাড়লে শেষ মুহূর্তে সেই বাজেটে আরও কাটছাঁট করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা ক্রেতাদের।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.