প্রয়াত হলেন মহিষাদল বিধানসভার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক দীনবন্ধু মণ্ডল। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন বিধায়ক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। সাদামাটা জীবনযাপন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিধানসভায় তাঁর জীবনযাত্রার প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
১৯৮২ সালে মহিষাদল থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন
দীনবন্ধু মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনের শুরু জেলা পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে। ১৯৭৮ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮২ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী রমণীমোহন মাইতিকে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন দীনবন্ধু মণ্ডল। নির্বাচনে তিনি মোট ৩৫,০৫৯টি ভোট পেয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালেও জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
সাধারণ জীবনযাপনের জন্য প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী
রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলেও দীনবন্ধু মণ্ডলের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। সাইকেলে যাতায়াত করা, হেঁটে বাজারে যাওয়া এবং চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত ছবি।
সম্প্রতি বিধানসভায় প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার সময় দীনবন্ধু মণ্ডলের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাক্তন বিধায়ক হয়েও দীনবন্ধু মণ্ডল নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করতেন, বাজার থেকে সবজি কিনতেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে চা খেতেন।
চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন
রাজ্যে পালাবদলের পরে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা ৬,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন দীনবন্ধু মণ্ডল। তাঁর মতে, প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো রাখার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিজের প্রশংসা শুনে দীনবন্ধু মণ্ডল বলেছিলেন, রাজনীতি যে যার মতো করলেও সম্পর্ক যেন ভালো থাকে।
এক সময়ের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং সাধারণ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত দীনবন্ধু মণ্ডলের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।