পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়
১৯১০ সাল। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ৮ মার্চ সারা বিশ্বের ১৭টি দেশের ১০৬ জন নারী প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের নেতৃত্বে ছিলেন জার্মান সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিন।
সেই সভা থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ৮ মার্চ সারা বিশ্বে “আন্তর্জাতিক নারী দিবস” হিসেবে পালন করা হবে।
চিরকালই সমাজের সবচেয়ে উপেক্ষিত, অবহেলিত এবং নানা বিধিনিষেধের শিকার হয়েছেন নারীরা। অথচ মানবসভ্যতার উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীর অবদান কখনও পুরুষের চেয়ে কম নয়। বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারীর অবদান অসামান্য। তবুও দীর্ঘদিন ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর অধিকার বহুবার পদদলিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আজও সেই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন ঘটেনি।
পরবর্তীকালে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নারীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে ওঠে। ক্লারা জেটকিনসহ আরও বহু নারী নেত্রী এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আমাদের দেশেও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুগে যুগে বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছে। অনেক নারীকে ঘর-বাইরে, সমাজে নানাভাবে অপমান ও অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। বলা যায়, সেই সংগ্রাম এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি।
মানবসভ্যতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারী। জন্মদান থেকে লালনপালন, পরিবার ও সমাজ গঠনে নারীর অবদান চিরস্মরণীয়।
তবুও অনেক সময় নারীর স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব হয়, তারা নিগ্রহের শিকার হন।
এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন—
“নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার
কেন নাহি দিবে অধিকার, হে বিধাতা?”
কাজী নজরুল ইসলামও লিখেছেন—
“এই বিশ্বে যা কিছু মহান,
যা কিছু কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,
অর্ধেক তার নর।”
এই সত্য চিরন্তন। পৃথিবীকে সুন্দর ও সুস্থ করে গড়ে তোলার অন্যতম শক্তি নারী।
পরমপুরুষ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন—
“ওরে, ওরাই মহাশক্তি। ওদের সাধনা স্বয়ং মহাদেব করেন, তুই আমি কোন ছার!”
স্বামী বিবেকানন্দও বলেছেন—
“যে জাতির নারী অবহেলিত হয়, সে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। তাই নারীকে যথাযথ সম্মান দেওয়া আমাদের প্রধান ব্রত হওয়া উচিত।”