প্রথম পাতা খবর ‘বাঙালি কী, দিল্লিতে বুঝিয়ে দিয়েছি, এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন’— নির্বাচন কমিশন থেকে বিজেপি, বারুইপুরের মঞ্চে তীব্র আক্রমণে অভিষেক

‘বাঙালি কী, দিল্লিতে বুঝিয়ে দিয়েছি, এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন’— নির্বাচন কমিশন থেকে বিজেপি, বারুইপুরের মঞ্চে তীব্র আক্রমণে অভিষেক

74 views
A+A-
Reset

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বাদানুবাদ, বিজেপির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগ থেকে শুরু করে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের রণকৌশল— সব মিলিয়ে বারুইপুরের মঞ্চ থেকে আগাম নির্বাচনী সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বারুইপুরের জনসভা থেকে অভিষেক স্মরণ করান দিল্লির সেই ঘটনার কথা। বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সঙ্গে আঙুল তুলে কথা বলেছিলেন। পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, “আপনি মনোনীত, আমি নির্বাচিত। বাঙালি কী, দিল্লিতে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন।”

মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, গত সাত বছরে বাংলা থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। অভিযোগ করেন, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প ও গরিবের আবাস যোজনার টাকা এখনও চালু করা হয়নি।

মহারাষ্ট্রে গিয়ে বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ গ্রেফতার হওয়া বালুরঘাটের এক বিজেপি বুথ সভাপতির প্রসঙ্গও তোলেন অভিষেক। অভিযোগ করেন, ওই বুথ সভাপতির পাশে দাঁড়াননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বরং তৃণমূল লড়াই করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। অভিষেকের কটাক্ষ, “নিজেদের বুথ সভাপতিকেই যে বিজেপি রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার মানুষকে কীভাবে রক্ষা করবে?”

সভায় শুভেন্দু অধিকারীর একটি অডিয়ো শোনানো হয়, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়— “এর চেয়ে তো ইউনূসের সরকার ভাল চলছে।” এই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, বাংলাদেশে দীপু দাসকে নৃশংস ভাবে হত্যার পরেও বিজেপি নেতারা এমন মন্তব্য করছেন। অথচ তাঁরাই নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন।

এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে আতঙ্কের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার ও বিএলও-দের মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তোপ দাগেন অভিষেক। বারুইপুরের মঞ্চে তিন জনকে র‌্যাম্পে হাঁটিয়ে তোলা হয়— মেটিয়াবুরুজের দু’জন এবং কাকদ্বীপের এক বাসিন্দা। অভিযোগ, তাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও এসআইআর তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিতর্ক নিয়েও সরব হন তৃণমূল নেতা। বলেন, “কে কী খাবে, কী বিক্রি করবে, কী পরবে— সেটা কি বিজেপির দালালরা ঠিক করবে?” তাঁর হুঁশিয়ারি, যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, তত দিন বাংলার মানুষের দিকে চোখ তুলে তাকালে জবাব পেতে হবে। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

২০২৬ বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই জেলা সফর শুরু করার কারণও ব্যাখ্যা করেন অভিষেক। বলেন, “কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতেই যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়েই লড়াই শুরু করলাম।” একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বিজেপি যদি একটি বিধানসভাতেও পাঁচ হাজার চাকরি দেওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.