এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, চুরি করে ভোটে জেতার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
অভিষেকের দাবি, ‘‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি দেখিয়ে ১ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু বিএলএ-২-রা সেটা ধরে ফেলেছেন।’’
এই প্রসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘তোমার কাছে ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, বিচার বিভাগের একাংশ, রাজ্যপাল—সব কিছু রয়েছে। তার পরেও বাংলা দখল করতে পারছ না। বিয়ের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে, কিন্তু পাত্র-পাত্রীরই দেখা নেই।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলের কিছু নেই। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন এবং বাংলার ১০ কোটি মানুষ রয়েছেন। বাকিটা তৃণমূল কর্মীরাই মাঠে বুঝে নেবেন।’’
সভা থেকে ‘বয়কট বিজেপি’ স্লোগানও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন ‘নো ভোট টু বিজেপি’ বলেছিল। এ বার ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে সাক্ষী রেখে বলছি—বিজেপিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে।’’
এ দিন বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘সৌরভ যদি দালাল হন, তা হলে ২০২১ সালে অমিত শাহ কেন শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়েছিলেন?’’
অভিষেকের দাবি, খসড়া ভোটার তালিকায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। পরে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬৩ থেকে ৬৪ লক্ষে। পাশাপাশি ৬০ লক্ষের বেশি নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে।
তাঁর কথায়, ‘‘সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতারা আগে থেকেই যে কথা বলছিলেন, তার সঙ্গে এই সংখ্যার মিল কাকতালীয় হতে পারে না।’’
এ দিন ‘বিবেচনাধীন’ প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিবেচনাধীন হয়, তা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও বিবেচনাধীন।’’
একই সঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে আইনি লড়াই করেছেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই অভিষেকের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।