বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মায়াপুর সফরে এসে ধর্মীয় আবহেই বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বক্তব্যের শুরুতেই ‘হরে কৃষ্ণ’ ধ্বনি তুলে তিনি বলেন, “আজ আমি এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে এসেছি।”
শাহ জানান, বহুদিন ধরেই মায়াপুরে আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে এই পুণ্যভূমিতে আসতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেন।
বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর মহারাজের ১২৫তম জন্মোৎসব উপলক্ষে মায়াপুর ইসকন মন্দির-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন শাহ। প্রথমে মন্দিরে পুজো দিয়ে পরে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন তিনি।
শাহ জানান, মায়াপুরে আসার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তরফে মায়াপুরের ভক্তদের ‘হরে কৃষ্ণ’ শুভেচ্ছা বার্তাও পৌঁছে দেন তিনি।
বক্তব্যে শাহ বলেন, “ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন চৈতন্যদেব। সেই আন্দোলন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।” মহাপ্রভুর পুণ্যভূমিতে এসে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন।
শুরু রাজনৈতিক তরজা
তবে নির্বাচনের আগে এই সফর ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ধর্মীয় আবহে বক্তব্য রেখে ভোটের আগে হিন্দুত্বের বার্তা জোরদার করার চেষ্টা করেছে বিজেপি।
শাহের সফর নিয়ে কটাক্ষ করেছেন মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সফরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা জনগণই বিচার করবে। ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন ব্যক্তিগত বিষয় হলেও ভোটের আগে তা রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে বলে মন্তব্য তাঁর।
ভোটের আগে বার্তার তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মায়াপুরে শাহের উপস্থিতি ও বক্তব্য ভোটের আবহে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতিকে আরও উস্কে দিল। অন্যদিকে তৃণমূল তা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছে।