দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন ভাঙড়ের পরিচিত মুখ আরাবুল ইসলাম। বুধবার রাতেই তিনি জানান, নতুন রাজনৈতিক পথ খুঁজতে তিনি যোগ দিচ্ছেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টে (আইএসএফ)। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুরফুরা শরিফে গিয়ে নওশাদ সিদ্দিকির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএসএফে যোগ দেন তিনি।
দলবদলের পরই সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন আরাবুল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী “কান দিয়ে শোনেন না, চোখ দিয়ে শোনেন।” ভাঙড়ে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। সেই কাজ তিনি নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বে করবেন বলেও জানান।
আরাবুলের কথায়, ভাঙড়ে একজন “অত্যাচারী ও তোলাবাজ” ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এলাকায় অশান্তি বেড়েছে। যদিও তিনি কারও নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্য ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ঘিরেই।
তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাস ধরেই আইএসএফের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ চলছিল এবং ধাপে ধাপে সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তিনি এই দলে যোগ দিয়েছেন। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে, আগামী নির্বাচনে ভাঙড় অথবা ক্যানিং এলাকার কোনও আসন থেকেই আইএসএফের প্রার্থী হতে পারেন আরাবুল।
উল্লেখ্য, তৃণমূলের সঙ্গে আরাবুল ইসলামের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের ছিল। একসময় ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃতও হয়েছিলেন। পরে অবশ্য তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়া, পঞ্চায়েত ভোটের সময় এলাকায় অশান্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। যদিও পরে জামিনে মুক্তি পান এবং এলাকায় ফেরেন সমর্থকদের স্বাগত নিয়ে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের সামনে আরাবুল ইসলাম জানান, দল তাঁর মূল্যায়ন করেনি এবং তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সেই অভিমানের জেরেই শেষ পর্যন্ত দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এই দলবদল যে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে এই পদক্ষেপ তৃণমূল ও আইএসএফ—উভয় শিবিরের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।