নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: অনলাইন খাবার ডেলিভারি, অ্যাপ-ক্যাব বা বাইক ট্যাক্সির মতো গিগ ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য বড়সড় সামাজিক সুরক্ষা কবচ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গিগ ওয়ার্কারদের এবার থেকে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের এই বিপুল সংখ্যক কর্মী ও তাঁদের পরিবার নিখরচায় চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
আবেদন ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া: মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গিগ কর্মীদের জন্য শীঘ্রই একটি আলাদা পোর্টাল খোলা হবে। সেখানে আবেদন করার পর একটি প্রাথমিক সার্ভে বা ভেরিফিকেশন করা হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই কর্মীরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এককালীন আর্থিক সাহায্য: শুধুমাত্র চিকিৎসার সুবিধাই নয়, গিগ কর্মীদের জন্য আরও কিছু মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার:
- অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা: কাজ করতে গিয়ে কোনও কর্মী অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার কবলে পড়লে বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
- মৃত্যুজনিত সহায়তা: কোনও গিগ কর্মীর অকাল মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গিগ ওয়ার্কারদের কোনও সামাজিক সুরক্ষা ছিল না।” এই অভাব দূর করতেই রাজ্য সরকার তাদের জন্য পোর্টাল খুলে নাম নথিভুক্তকরণ এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬-এর এই অন্তর্বর্তী বাজেটে গিগ ওয়ার্কারদের পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বৃদ্ধি এবং বেকারদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের মতো একাধিক জনমুখী ঘোষণা করা হয়েছে।