ভোট ঘোষণার পর রাজ্যে একের পর এক আমলা ও পুলিশকর্তার বদলি নিয়ে এবার সরগরম কলকাতা হাই কোর্ট। এই ইস্যুতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হওয়ার পর সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে শুনানি হয়।
মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কি কার্যত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে? তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বলবৎ থাকলেই এই ধরনের ব্যাপক বদলি সম্ভব।
কল্যাণের অভিযোগ, ভোট ঘোষণার পর রাতারাতি গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “যাঁরা নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, তাঁদেরও কেন সরানো হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট কারণ নেই।”
তিনি আরও দাবি করেন, পঞ্চায়েত দফতরের সচিব থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার—একাধিক আধিকারিককে হঠাৎ সরানো হয়েছে। দক্ষ অফিসার জাভেদ শামিমের বদলিও প্রশ্নের মুখে তুলে ধরেন তিনি।
আদালতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে মামলাকারীর আইনজীবী জানান, ইতিমধ্যেই ৬৩ জন পুলিশ অফিসার, ১৬ জন আইএএস অফিসার এবং ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরানো হয়েছে। তাঁদের অনেককেই কোনও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ।
রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তও কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি এমন ক্ষমতা রাখে যে নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আধিকারিকদেরও অপসারণ করতে পারে?
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য, পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন রাজ্যেই আধিকারিক বদলি করা হয় এবং এটি সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই পড়ে।
এছাড়া, এই জনস্বার্থ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন। তাদের দাবি, মামলাকারী নিজেই সরকারি আইনজীবী প্যানেলের সদস্য হওয়ায় তাঁর পক্ষে জনস্বার্থ মামলা করা উচিত নয়।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বুধবার হবে বলে জানিয়েছে আদালত। ফলে ভোটের আগে আধিকারিক বদলি ইস্যুতে আইনি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।