মালদহের কালিয়াচক কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। গোটা ঘটনার তদন্তভার এবার তুলে দেওয়া হল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর হাতে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালেই রাজ্যে পৌঁছবেন সিবিআই আধিকারিকরা এবং দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন। কালিয়াচকের ঘটনায় কীভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করা হল, নিরাপত্তা কোথায় ভাঙল—সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকাল থেকেই। ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিল মালদহের কালিয়াচক এলাকা। বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার কাজে যাওয়া বিচারকদের উপরেই আছড়ে পড়ে জনরোষ।
কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘেরাও করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহিলা-সহ তিনজন বিচারকও। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গভীর রাতে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি ওঠে সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া-এ। একইসঙ্গে কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল একটি চিঠির মাধ্যমে পুরো ঘটনা শীর্ষ আদালতকে জানান।
সেই চিঠির প্রসঙ্গ তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, বুধবার রাতেই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বিচারকদের ঘেরাওয়ের খবর তাঁদের কাছে পৌঁছেছিল এবং রাত ২টো পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা বিচারকদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে পারে।
এরপরই শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, গোটা ঘটনায় এনআইএ বা সিবিআই তদন্ত করাতে হবে। শেষ পর্যন্ত সিবিআইকেই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনা না থাকায় এনআইএ-কে এই তদন্তে যুক্ত করা হয়নি বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে, কালিয়াচক কাণ্ডে সিবিআই তদন্ত শুরু হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়ল। তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।