প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মণি কুমার ছেত্রী। রবিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ প্লেসের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় পনেরো দিন আগে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
চিকিৎসা জগতে ডা. ছেত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি SSKM Hospital-এর অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর উদ্যোগেই এই হাসপাতালে গড়ে ওঠে ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট (আইটিইউ)। পাশাপাশি এনডোক্রিনোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি, ডায়াবিটিস ও রিউম্যাটোলজির মতো একাধিক বিশেষায়িত বিভাগ চালু হয় তাঁর হাত ধরেই—যা সেই সময় রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যে প্রথম।
কর্মজীবনের শুরু লন্ডন থেকে ফিরে School of Tropical Medicine-এ রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে। পরবর্তীকালে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়-এর উদ্যোগে তাঁকে প্রেসিডেন্সি জেনারেল হাসপাতালে (বর্তমান এসএসকেএম) কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে নিয়ে আসা হয়।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
ডা. ছেত্রীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চিকিৎসক মহল। West Bengal Doctors Forum-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার রাজ্যের চিকিৎসকেরা কর্মস্থলে কালো ব্যাজ পরে কাজ করবেন। চিকিৎসা পরিষেবায় তাঁর অবদান ও মানবিকতার জন্য তিনি চিকিৎসক মহলে আজও অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মত বিশিষ্টজনদের।