প্রথম পাতা খবর ‘একজন মহিলাকে বলছেন ডোন্ট শাউট’, কমিশনের সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশকে তোপ চন্দ্রিমার, কী বলল সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি

‘একজন মহিলাকে বলছেন ডোন্ট শাউট’, কমিশনের সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জ্ঞানেশকে তোপ চন্দ্রিমার, কী বলল সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি

13 views
A+A-
Reset

রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এসআইআর (বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন) ইস্যুতে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে একাধিক রাজনৈতিক দল। সোমবার বৈঠক শেষে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এবং বিজেপির প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানান।

তৃণমূলের তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রসঙ্গে আলোচনা তুলতেই নির্বাচন কমিশন জানায় যে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সেই প্রসঙ্গেই ক্ষোভ প্রকাশ করে চন্দ্রিমা বলেন, “এসআইআর নিয়ে যা-ই বলছি, ওঁরা বলছেন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। তা হলে আমাদের ডাকা হল কেন? ডেকেছেন যখন, আমাদের কথা তো শুনতে হবে। মানুষকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব, তাই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি।”

চন্দ্রিমা আরও অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে চিৎকার না করতে বলেন। সেই মন্তব্যে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমি মহিলা, আমাকে বলা হচ্ছে ‘ডোন্ট শাউট’। মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই বলেই হয়তো ভোটার তালিকা থেকেও মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ভোট এক দফা বা একাধিক দফায় হতে পারে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপত্তা। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব। এক দফায় ভোট হলে আমরা খুশি হব, তবে নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

সিপিএমের তরফে এক দফায় ভোটের দাবি জানানো হয়েছে। দলের নেতা মহম্মদ সেলিম কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে কমিশন কেন মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল? নির্বাচন কমিশন যেন নির্যাতন কমিশনে পরিণত হয়েছে।”

বিজেপির প্রতিনিধিরা অবশ্য জানিয়েছেন, বৈঠকে এসআইআর নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এসআইআর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তা মেনে নেব। বৈঠকে মূলত নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

বিজেপি প্রতিনিধি শিশির বাজোরিয়া রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট করাতে হবে এবং ওয়েব ক্যামেরা বসাতে হবে। কোথাও ক্যামেরা খারাপ হলে ভোট স্থগিত বা পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থাও রাখতে হবে বলে দাবি জানান তিনি।

এদিকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যও বৈঠকে উঠে আসে। বিজেপির প্রতিনিধিরা কমিশনের কাছে এ বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে এফআইআর করা উচিত। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.