আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইডি-র তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। সকাল প্রায় ৬টা থেকে টানা ৯ ঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান। দুপুর ৩টে নাগাদ প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ইডি আধিকারিকরা।
এরপরই নাটকীয় মোড়। প্রতীক জৈনের পরিবারের তরফে তাঁর স্ত্রী শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডি-র বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জৈন পরিবারের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁদের বাড়ি থেকে জরুরি নথি চুরি করেছে ইডি।
এই ঘটনার মধ্যেই সল্টলেকের আইপ্যাকের দফতরে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন,
“ফরেনসিক ব্যবহার করে ল্যাপটপ থেকে দলের নথি, ভোটের রণকৌশল চুরি করা হয়েছে। এটা ক্রাইম।”
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নথি চুরির অভিযোগে ইডি-র বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হবে। পাশাপাশি প্রতীক জৈন না আসা পর্যন্ত আইপ্যাকের সল্টলেক অফিসেই থাকবেন বলেও জানান তিনি।
দিল্লির একটি পুরনো কয়লা মামলার সূত্রে এদিন সকাল থেকে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির মাঝেই প্রথমে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরে তিনি পৌঁছন সল্টলেকের আইপ্যাকের দফতরে। সেখান থেকে একগুচ্ছ ফাইল এনে নিজের গাড়িতে তোলেন তিনি।
এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একযোগে ইডি ও দিল্লির বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ,
“ভোর ৬টা থেকে অপারেশন শুরু হয়েছে, যখন অফিসে কেউ ছিল না। সেই সময় দলের সমস্ত ডেটা, ল্যাপটপ, মোবাইল, নির্বাচনের স্ট্র্যাটেজি, এমনকি এসআইআর সংক্রান্ত নথিও ফরেনসিক টিম এনে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এটা মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি।”
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সবকিছু ফাঁকা করে দেওয়ায় নতুন করে কাজ শুরু করতে গেলে নির্বাচনই পেরিয়ে যাবে। তাঁর কথায়, প্রয়োজন হলে আয়কর দফতরের মাধ্যমে নথি নেওয়া যেত। বিজেপিকে ‘ডাকাতের দল’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।
“রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই বলেই ইডি দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করা হয়েছে,” বলেন তিনি।
লাউডন স্ট্রিট থেকে বেরিয়েও একই সুরে ইডি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের গোপন তথ্য ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই এই অভিযান। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ,
“আমার আইটি দফতরে অভিযান চালিয়ে দলের গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে নামানো হয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতীক জৈনের কাছ থেকে দলের কিছু ফাইল ও হার্ড ডিস্ক তিনি নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়,
“এগুলি আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
সব মিলিয়ে, ইডি-র এই তল্লাশি এবং তার পর মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি ফের একবার তীব্র সংঘাতের পথে। শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে।