পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় রদবদল। রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার মুখ্যসচিব হলেন এক মহিলা— নন্দিনী চক্রবর্তী। বুধবার সরকারি ভাবে তাঁর নাম ঘোষিত হয়েছে। এতদিন স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার আগে রাজ্যপালের প্রধান সচিব ও পর্যটন দপ্তরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন। সেই নন্দিনীকে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থায় প্রশাসনের শীর্ষে বসানো হল।
এর আগে মুখ্যসচিবের দায়িত্বে থাকা মনোজ পন্থের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। তিনি ছয় মাসের এক্সটেনশনে ছিলেন। যদিও মুখ্যসচিব পদ থেকে অবসর নিলেও প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না তাঁর। এবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব হিসাবে সমমর্যাদার পদে কাজ করবেন মনোজ পন্থ।
কীভাবে সামনে এল নন্দিনীর নাম?
মুখ্যসচিব হওয়ার দৌড়ে ছিলেন বরুণ রায়, অত্রি ভট্টাচার্য, প্রভাত মিশ্রের মতো প্রবীণ আমলারাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর আস্থার জায়গা দখল করলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে এবার মহিলা মুখ্যসচিব— রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদেই এখন দুই নারী।
নন্দিনীর অতীত, অভিজ্ঞতা এবং বিতর্ক
১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী রাজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ দেখেছেন। রাজ্যপালের প্রধান সচিব থাকা অবস্থায় তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল বড় বিতর্ক। রাজভবন তাঁকে রিলিজ করার কথা জানালেও নবান্ন চেয়েছিল তিনি দায়িত্বে থাকুন। এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের পরে তাঁকে সরানো হয়েছিল। পাঠানো হয় পর্যটন দপ্তরে, পরে স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। এবার তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
নতুন দায়িত্ব কার কার হাতে
- মুখ্যসচিব: নন্দিনী চক্রবর্তী
- মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিব: মনোজ পন্থ
- নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব: জগদীশ প্রসাদ মীনা
- পর্যটন দপ্তর: বরুণ রায়
এই সাংগঠনিক রদবদলের পর নবান্নে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দপ্তর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হল বলেই মনে করছে আমলা মহল।