তারকা ফুটবলার লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলায় ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবার স্বয়ং সাগরদ্বীপে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী সাগরদ্বীপে পৌঁছাবেন। সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করারও কর্মসূচি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। পরিদর্শন শেষে ৬ জানুয়ারি তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা।
নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, এ বছর গঙ্গাসাগর মেলায় কোনও ভাবেই ভিআইপি পাস, আলাদা রাস্তা বা বিশেষ সুবিধার সংস্কৃতি চলবে না—এই নির্দেশ আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই নির্দেশ ঠিকমতো কার্যকর হচ্ছে কি না এবং মেলার সার্বিক প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, তা নিজে চোখে দেখতেই সাগরদ্বীপে যাচ্ছেন তিনি।
প্রশাসনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সাফাই, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী আবাসনের বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করা হবে। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি নিয়েও আলাদা ভাবে পর্যালোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর নবান্নে গঙ্গাসাগর মেলা সংক্রান্ত এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন—সাধারণ পুণ্যার্থীদের অসুবিধা হয়, এমন কোনও ব্যবস্থাই বরদাস্ত করা হবে না। সকলের জন্য সমান পরিষেবা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনকে কড়া বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি।
প্রশাসনিক সূত্রে আরও ইঙ্গিত মিলেছে, এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী গঙ্গাসাগরের পুণ্যস্থান কপিলমুনির মন্দির-এ পুজো দিতে পারেন। পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে মন্দিরচত্বর ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও তিনি খতিয়ে দেখবেন।
আগামী ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। যদিও মেলা শুরু হবে ১০ জানুয়ারি থেকেই এবং চলবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রশাসনের অনুমান, এ বছরও গঙ্গাসাগর মেলায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হবে।
নবান্ন সূত্রের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর কার্যত প্রশাসনের কাছে একটি ‘ফাইনাল রিভিউ’। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী শেষ মুহূর্তের ঘাটতি পূরণ করেই গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভাবে পরিচালনা করতে হবে প্রশাসনকে।