আজ নন্দীগ্রাম দিবস। প্রায় ১৯ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ নন্দীগ্রামে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী ঘটনার স্মৃতিতে শহিদদের শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর এবং নেতাইয়ের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে লেখেন, “নন্দীগ্রাম দিবসে নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর ও নেতাই-সহ সমগ্র বিশ্বের সকল শহিদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং অন্তরের গভীর প্রণতি।”
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাংলার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের প্রভাবেই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে এবং দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান হয়।
সরকারে আসার পর থেকেই নন্দীগ্রাম দিবস পালনকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে তৃণমূল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও শহিদদের স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘটনার প্রায় দুই দশক পরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এক সময়ের বিরোধী দল তৃণমূল এখন রাজ্যের শাসকদল। অন্যদিকে তৎকালীন শাসকদল সিপিএম এখন রাজ্যের রাজনীতিতে অনেকটাই প্রান্তিক। বর্তমানে বিজেপি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রাম দিবসকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থানও ভাগ হয়ে গিয়েছে।
নন্দীগ্রাম আন্দোলন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০০৭ সালের সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাঁর কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি বহুবার ওই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে ভূমিউচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে জমি রক্ষা আন্দোলনের সময় ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযোগ, ওইদিন পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়। সেই শহিদদের স্মরণে প্রতি বছর ১৪ মার্চ রাজ্যজুড়ে নন্দীগ্রাম দিবস পালন করা হয়।