ব্রিগেড পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সোমবার দুপুরে নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি(জেইউপি)-র সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যান তিনি। সেই সময় মাঠে ক্রিকেট খেলছিলেন কয়েক জন যুবক। হুমায়ুন কবীরকে দেখেই তাঁরা তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও ওঠে বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর বিজেপির হয়ে কাজ করছেন এবং রাজ্যের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের গার্ডেনরিচ এলাকার বাসিন্দা বলেও দাবি করেন ওই যুবকেরা। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “হুমায়ুন বিজেপির দালাল। বাংলার শান্তি নষ্ট করতেই তিনি এই সব করছেন।”
হুমায়ুন কবীরের গাড়ি ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আগেই গাড়ি নিয়ে ব্রিগেড ছেড়ে চলে যান ভরতপুরের বিধায়ক। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, “যে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে পারে।” একই সঙ্গে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে হটাব। আমরা সভা করব। কারও হিম্মত থাকলে আটকে দেখাক।”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে বড় সভা করে শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছে হুমায়ুন কবীরের দল। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্রিগেডে সভা করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁদের। সেই কারণেই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ পরিদর্শনে এসেছিলেন তিনি।
বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পরে হুমায়ুন কবীর জানান, ব্রিগেডে সভা করার জন্য নিয়ম মেনেই সেনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই সভা করার চেষ্টা চালাবেন। তবে ব্রিগেডে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে।