আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম-এ রঙ বদলানো ম্যাচের শেষ হাসি হাসল দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের জবাবে ভারত থামল ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে। ব্যবধান ৭৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে পরাজয়ের স্বাদ পেল সূর্যকুমার যাদবের দল।
শুরুটা ভারতের, ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার
প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিংহ। ২০ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে কোণঠাসা করেন প্রোটিয়াদের। মার্করাম (৪), ডি কক (৬), রিকলটন (৭) দ্রুত ফিরলে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
কিন্তু সেখান থেকেই মোড় ঘোরান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ডেভিড মিলার। চতুর্থ উইকেটে ৯৭ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। ব্রেভিস ২৯ বলে ৪৫, মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবস ২৪ বলে ৪৪* করে স্কোর ১৮৭-তে পৌঁছে দেন।
ভারতের হয়ে বুমরাহ ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৩ উইকেটের মালিক হন। অর্শদীপ নেন ২ উইকেট। তবে বরুণ চক্রবর্তী ও ওয়াশিংটন সুন্দর ব্যয়বহুল।
ব্যাটিংয়ে ধস
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়। ৭ বলের মধ্যে ঈশান কিশন (০) ও তিলক বর্মা (১) ফিরলে চাপে পড়ে ভারত। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়াম।
অভিষেক শর্মা কিছুটা আশা জাগালেও ১১ বলে ১৫ করে ফেরেন। অধিনায়ক সূর্যকুমার (২২ বলে ১৮)ও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়াশিংটন সুন্দর ধীরগতির ১১ বলে ১১ করে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন। ৪৩ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর ম্যাচ কার্যত দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে।
হার্দিক পাণ্ড্য (১৮) ও শিবম দুবে (৩৭ বলে ৪২) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও কেশব মহারাজের স্পিনে ভেঙে পড়ে ভারত। একই ওভারে হার্দিক, রিঙ্কু সিংহ ও অর্শদীপকে ফেরান মহারাজ। শেষ পর্যন্ত ভারতের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১১১-তে।
কৌশলে এগিয়ে প্রোটিয়ারা
মন্থর পিচে গতি কমিয়ে বল করে ভারতীয় ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারেরা। জানসেন ২২ রানে ৪ উইকেট, মহারাজ ২৪ রানে ৩ উইকেট নেন। অধিনায়ক এডেন মার্করামের কৌশলী ফিল্ড প্লেসমেন্টও ম্যাচে প্রভাব ফেলে।
সামনে জিম্বাবোয়
এই হারে ভারতের নেট রান রেটেও ধাক্কা। পরের ম্যাচে জোড়া অঘটন ঘটানো জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ভারত। সিকন্দর রাজাদের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন সূর্যদের লক্ষ্য।