শীতের দাপটে কার্যত কাঁপছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা। জানুয়ারি মাসে এমন ঠান্ডা শহরবাসী আগে কখনও অনুভব করেননি। মঙ্গলবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে এটিই কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সর্বকালীন রেকর্ড।
শহরতলি ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও কঠিন। মঙ্গলবার ভোরে বেশ কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচেও নেমে যায়। ভোরের দিকে কলকাতা শহরে হালকা কুয়াশা দেখা গেলেও, শহরতলি এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে সোমবার গভীর রাত থেকেই ঘন কুয়াশার চাদর নামতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরেও বহু এলাকায় কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায়।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ বছরে জানুয়ারি মাসে মাত্র এক বারই কলকাতার পারদ ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৯ ডিগ্রি। এ বার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। এর আগে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এক বার কলকাতার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রিতে নেমেছিল। আরও আগে, ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে শহরের পারদ নেমে গিয়েছিল ৭.২ ডিগ্রিতে।
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে শীতের দাপট আরও বাড়তে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে তাপমাত্রা আরও প্রায় ২ ডিগ্রি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তার পরের কয়েক দিন তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন না হলেও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি কম থাকতে পারে।
মঙ্গলবার দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার কিছু এলাকায় ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার বাঁকুড়া বাদে বাকি জেলাগুলিতেও একই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় ঘন কুয়াশার সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন প্রায় সব জেলাতেই ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা। ভোরের দিকে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যেতে পারে। দুই দিনাজপুর ও মালদহে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।