টানা দুদিন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকার পর বৃহস্পতিবার সামান্য বাড়ল কলকাতার তাপমাত্রা। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় এখনও ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। ফলে পারদ কিছুটা বাড়লেও শীতের দাপট কমার কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় এখনও ‘শীতল দিনের’ (Cold Day) পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলা—হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় শীতল দিনের পরিস্থিতি জারি রয়েছে। এই জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে নামতে পারে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকতে পারে। ফলে দিনভর কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি থাকবে।
উত্তরবঙ্গেও শীতের দাপট স্পষ্ট। কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় শীতল দিনের পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কুয়াশার প্রভাব। সকালের দিকে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া দফতর রাজ্যের ১১টি জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা জারি করেছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার—এই তিন দিনে চার জেলায় কুয়াশার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও জারি হয়েছে সতর্কবার্তা।
কলকাতা-সহ রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও ঠান্ডা হাওয়ার জেরেই এই শীত ও কুয়াশার প্রভাব বজায় থাকবে। ফলে আগামী কয়েকদিন শীতের আমেজ থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।