এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে ফের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিহারে যে নথি গ্রহণযোগ্য, বাংলায় তা বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার গ্রাহ্য হলেও বাংলায় তা মানা হচ্ছে না। একই এসআইআর প্রক্রিয়ায় দুই রাজ্যে আলাদা নিয়ম কেন—এই প্রশ্ন তুলে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর আরও মন্তব্য, “নির্বাচন কমিশন ক্যাপচার কমিশন হয়ে গিয়েছে।”
সুপ্রিম নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ
মমতার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সঠিক পদ্ধতি মেনে কাজ করছে না। বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান।
সুপ্রিম নির্দেশের পর এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হলেও, কমিশন নিজেদের অবস্থান থেকে সরছে না বলে অভিযোগ তাঁর। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। তার আগেই নবান্ন থেকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
৫৮ লক্ষ নাম বাদ?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলার খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এআই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাতিল হওয়া নামের তালিকা প্রকাশের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। “আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে। আত্মসমর্পণ করব না। দিল্লির জমিদারদের কথা কাজ হবে না,”—এই ভাষাতেই হুঙ্কার শোনান তিনি।
অন্যান্য রাজ্যের প্রসঙ্গ
মমতা দাবি করেন, হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যা চাপা থাকে না। কমিশনকে ‘লক্ষ্মণরেখা’ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান মেনে কাজ করতে হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক তরজা নতুন নয়। তবে ভোটের আগে এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।