২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক সরকারি বোর্ড, কমিটি, কাউন্সিল ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।
নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে—তিনি অবিলম্বে বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত সেই ইস্তফা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু তালিকাভুক্ত পদই নয়, তালিকার বাইরে যদি কোনও সংস্থা বা কমিটিতে তাঁর নাম থেকে থাকে, সেখান থেকেও ইস্তফা গ্রহণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত দফতরকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
যে পদগুলি থেকে ইস্তফা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পরিবেশ, বন, স্বাস্থ্য, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের বিভিন্ন বোর্ড ও কমিটি ছাড়াও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। যেমন—ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, স্টেট পাবলিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং বোর্ড এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট মিশন-সহ নানা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদত্যাগ কোনও বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ নয়। বরং নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী সরকারি পদ ব্যবহার করে নির্বাচনী সুবিধা নেওয়া নিষিদ্ধ—তাই আগেভাগেই এই পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারের কাছে নিরপেক্ষতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। যদিও সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের পদক্ষেপ নেন না, তবুও ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।