এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ লগ্নে সাতজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে সাময়িক বরখাস্ত করা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, রাজ্য সরকারের কর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কীভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন? কমিশনকে ‘ওয়ান পার্টি, ওয়ান তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের এক্তিয়ারে হস্তক্ষেপ করছে কমিশন এবং আধিকারিকদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
এফআইআর ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন ইআরও (ডব্লিউবিসিএস এগজিকিউটিভ অফিসার) এবং দু’জন এইআরও।
মমতার দাবি, “বিএলও, ডিএম, ইআরওদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাজনীতির নামে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে।” কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি, “গণতন্ত্র মেনে কাজ করুন।”
কমিশনের সাফাই
এদিকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সাতজন এইআরও-কে আইন মেনেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভার ও অবজার্ভাররা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনিয়ম চলতে থাকায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই কেবল রাজ্য সরকার এই সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে পারে।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
মমতার হুঁশিয়ারি, “যাঁদের ডিমোশন করবে, তাঁদের আমরা প্রোমোশন দেব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আঁতাঁত রয়েছে।
রাজ্যের এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কমিশনের দাবি, নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। অন্যদিকে নবান্নের বক্তব্য, রাজ্যের সাংবিধানিক এক্তিয়ার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
ভোটের আগে এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।