বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত কাজের চাপে দিন দিন বাড়ছে জটিলতা। নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে অভিযোগে। অথচ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় রয়েছে একাধিক ত্রুটি—যার ফলে দ্রুত কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। এই অস্বাভাবিক চাপের জেরে একাধিক বিএলও আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের সুইসাইড নোটেও স্পষ্ট উঠে এসেছে কাজের অতিরিক্ত চাপের প্রসঙ্গ।
এই আবহে শনিবার নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লেখেন,
“এসআইআরের চাপে এভাবে আর কত জীবন নষ্ট হবে? আর কত মৃতদেহ গুনতে হবে? এটা অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার হয়ে উঠছে।”
তিনি আরও জানান, কৃষ্ণনগরের চাপড়ার ২০১ নম্বর বুথের বিএলও ও পার্শ্বশিক্ষিকা রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি গভীর ভাবে ব্যথিত।
শনিবার সকালে ষষ্ঠীতলায় ভাড়াবাড়ি থেকে ৫৪ বছর বয়সি রিঙ্কু তরফদারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাঙালঝির স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষিকা ছিলেন তিনি এবং একই এলাকার বিএলও-র দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া দীর্ঘ সুইসাইড নোটেই রিঙ্কু লেখেন,
“আমি বাঁচতে চাই। আমার সংসারে কোনও অভাব নেই। কিন্তু এই সামান্য চাকরির জন্য এরা আমাকে এভাবে ভরাডুবির মাধ্যমে মরতে বাধ্য করল।”
চিঠিতে তিনি পরিবারের সদস্যদের এসআইআরের কাজ কীভাবে করতে হবে তাও বিস্তারিত লিখে যান—যা তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠারই প্রতিফলন। নোটের প্রায় প্রতিটি লাইনে কাজের অমানবিক চাপের কথাই উঠে এসেছে।
এর আগে পূর্ব বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং হুগলিতেও এসআইআরের চাপে বিএলওদের মৃত্যু ও অসুস্থতার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই পরিবার এবং সহকর্মীরা কমিশনের ‘চাপ’ ও ‘অবাস্তব সময়সীমা’কে দায়ী করেছেন।
এই ধারাবাহিক মৃত্যুর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন—“আর কত মৃত্যু দেখতে হবে?”
তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের অবাস্তব নির্দেশ, জটিল ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং তদারকির নামে মানসিক নির্যাতনই মৃত্যুর কারণ।
রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বিএলওদের ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং আতঙ্ক। প্রশাসনিক চাপ কমাতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়াতে এখনই পদক্ষেপের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।