এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখনই ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে এক সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় বনগাঁর বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দেখা করেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী। দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ একান্ত বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই সাক্ষাৎ কি নিছক সৌজন্য, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ— তা নিয়েই আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
তবে বৈঠক শেষে মুকুটমনি অধিকারী দাবি করেন, এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তাঁর কথায়, “তিন প্রজন্ম ধরে আমরা ঠাকুরবাড়িতে আসছি। এর আগেও বহুবার এসেছি। এটি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ।” দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ সবই সংবাদমাধ্যমের তৈরি কথা। ভোটের সময় তো আর দেখা করা যাবে না, তাই এসেছিলাম।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ও গাড়ি পুজো দিতে এসেছিল। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দলবদল নিয়ে কোনও কথাই হয়নি।”
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের আগে এ ধরনের সাক্ষাৎ নতুন রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিতেও পারে। বিশেষ করে মতুয়া ভোট রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এসআইআর ইস্যুতে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন মুকুটমনি অধিকারী। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হলেও পরাজিত হন। এরপর উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। এই পরিস্থিতিতে ঠাকুরনগরে শান্তনু ঠাকুর ও মুকুটমনি অধিকারীর সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।