বিধানসভা ভোটের আগে রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মতুয়া সম্প্রদায়। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়াকে ঘিরে ভোগান্তি, হতাশা, আতঙ্ক এবং ক্ষোভ—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই অঞ্চলে। নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন বহু মতুয়া পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিউটাউনের কেষ্টপুর-বাগজোলা খালপাড় সংলগ্ন বিধাননগর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড এবং জ্যাংড়া-হাতিয়াড়া অঞ্চলে মতুয়া সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪০ হাজার মতুয়া ভোটার রয়েছেন, যা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে, ২০২১ সালের ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah নিউটাউনে মতুয়া নেতা নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকের দাবি, সেই আশ্বাস পূরণ হয়নি।
অভিযোগ উঠছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে বহু মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, প্রায় ১৪ হাজার মতুয়ার নাম ‘বাতিলের তালিকা’-য় চলে গিয়েছে। ফলে ভোটের মুখে ক্ষোভ বাড়ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী সভাপতি নবীন বিশ্বাসের কথায়, এই পরিস্থিতিতে মতুয়াদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব প্রশ্নে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোড়িয়ার দাবি, তাঁরা ক্ষমতায় এলে মতুয়াদের নাগরিকত্ব সমস্যার সমাধান করা হবে। পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিভাজনের রাজনীতি করেই বিজেপি ভোটে ফায়দা তুলতে চাইছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন এই অঞ্চলে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকলেও, এসআইআর ইস্যু সেই সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে ২৯ এপ্রিলের ভোটে মতুয়া ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা—এই বাস্তবতাই এখন নিউটাউনের মতুয়া সমাজের বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।