প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়-এর শেষযাত্রায় আবেগঘন পরিবেশ কাঁচরাপাড়া থেকে হালিশহর পর্যন্ত। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ‘যুগল ভবন’-এর বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ শায়িত ছিল তাঁর দেহ। একে একে শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক মহলের বহু প্রতিনিধি। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সেখান থেকে পদযাত্রা করে প্রায় আট কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মুকুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় হালিশহরের শ্মশানে। শ্মশান পর্যন্ত শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে হাঁটেন অভিষেকও। সন্ধ্যা সওয়া ৭টা নাগাদ কাঠের চুল্লিতে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।
রবিবার গভীর রাতে বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন এক সময়কার ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’। দীর্ঘ দিন ধরেই একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই কাঁচরাপাড়ায় তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় জমান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ, নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে, চিকিৎসক নেতা নির্মল মাঝি, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক-সহ অনেকে। বিজেপি ও কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরাও শোকজ্ঞাপন করেন।
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন ছিল উত্থান-পতনে ভরা। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি ছিলেন দলের প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। পরে বিজেপিতে যোগ দেন, আবার ২০২১ সালে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁর প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ‘দীর্ঘ দিনের সহযোদ্ধা’ বলে উল্লেখ করে শোকপ্রকাশ করেন।
বিধানসভায় মরদেহে শ্রদ্ধা জানান স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক মন্ত্রী। সেখান থেকে কাঁচরাপাড়ার ‘যুগল ভবন’-এ নিয়ে আসা হয় দেহ। শেষপর্যন্ত জনসমাগমের মধ্যে দিয়েই সম্পন্ন হয় এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংগঠকের শেষকৃত্য।