‘গোপন’ ভিডিয়ো ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট ভেঙে দিলেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। শুক্রবার ভোরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই ঘোষণা করা হয়।
মিমের তরফে জানানো হয়েছে, মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে—এমন কোনও বিতর্কে তারা জড়াতে চায় না। সেই কারণেই হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মিম একক ভাবেই লড়বে, কোনও জোটে যাবে না।
যদিও জোট ভাঙার জন্য নির্দিষ্টভাবে কোনও ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ‘গোপন’ ভিডিয়োই এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। ওই ভিডিয়োয় হুমায়ুন কবীরের বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবীর বলেন, “ওঁর সিদ্ধান্ত উনি নিতে পারেন। আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না। ব্যক্তিগত ভাবে ওয়েইসি সাহেবকে আমি সম্মান করি।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে এই ভিডিয়ো তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, “আমি ভীত নই, আমাদের দল ১৮২টি আসনে লড়বে এবং ভাল ফল করবে।”
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস সাংবাদিক বৈঠক করে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে, যেখানে হুমায়ুন কবীরকে বিজেপির কাছ থেকে অর্থ দাবি করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ওয়েইসি ও হুমায়ুন কবীর যৌথ ভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা করেছিলেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে এই জোট তৈরি হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। একাধিক যৌথ সভার কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু ভোটের মুখে সেই জোট ভেঙে যাওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে।
এদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছিল, মিম ও হুমায়ুন কবীরের দল ভোট ভাগ করে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-ও একাধিক সভায় এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। সব মিলিয়ে, ‘গোপন’ ভিডিয়ো বিতর্কে জোট ভাঙার ঘটনা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।