আগামীকাল, শুক্রবারই প্রকাশ হতে চলেছে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। প্রথম তালিকা প্রকাশের পর প্রতি সপ্তাহের শেষে একটি করে ‘নিষ্পত্তি তালিকা’ প্রকাশ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার পর্যন্ত মোট ২৩ লক্ষ ৩০ হাজার বিচারাধীন ভোটারের নথির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই বিশাল প্রক্রিয়ায় বর্তমানে ৭১০ জন বিচারক কাজ করছেন। ফলে কাজের গতি দ্বিগুণ হয়েছে এবং এখন প্রতিদিন গড়ে প্রায় দু’লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই গতিতে কাজ চললে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সে ক্ষেত্রে ভোটের মনোনয়ন পর্ব চলাকালীনই প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের যোগ-বিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে অনুমান।
এদিকে, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে সেই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমতি মিললেই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জানা গিয়েছে, প্রকাশিত তালিকায় দু’টি আলাদা কলাম থাকবে—একটিতে যোগ্য ভোটারদের নাম এবং অন্যটিতে ‘ডিলিটেড’ বা বাদ দেওয়া ভোটারদের নাম। প্রতি সপ্তাহেই এইভাবে ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করা হবে।
শুধু তালিকা প্রকাশ নয়, ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য ও কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। খুব শীঘ্রই ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। সেখানে বাদ পড়া ভোটার বা তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগ কীভাবে জানাতে হবে, সেই নির্দেশিকাও থাকতে পারে।
এদিকে, তালিকা প্রকাশের আগে বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের নবনিযুক্ত ডিজি সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই বৈঠক।
অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার নামও ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় ছিল। কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে তাঁকে পুনরায় প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে সিইও দপ্তর সূত্রে খবর। জানা গিয়েছে, প্রথম তালিকাতেই তাঁর নাম প্রকাশ পাবে।