ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নথি গ্রহণযোগ্য হবে না—রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল জানতে চেয়েছিলেন, এই দুই আবাসন প্রকল্পের অনুমোদনপত্র বা আর্থিক সহায়তার নথি এসআইআরের শুনানিতে গ্রহণ করা যাবে কি না। ২১ জানুয়ারি তিনি নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে চিঠি পাঠান। সোমবার কমিশনের তরফে জানানো হয়, ওই নথি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিভ্রান্তির সূত্র কোথায়?
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এসআইআরের নোটিসে কমিশন উল্লেখ করেছিল, সরকার অনুমোদিত বাড়ি বা জমির শংসাপত্র নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য। সেই সূত্রেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বাড়ি তৈরির আর্থিক অনুমোদনের কাগজ দেখালেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। শুনানিতে বহু আবেদনকারী সেই নথিই জমা দেন।
কমিশনের ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআরের নোটিসপ্রাপ্তরা শুধুমাত্র কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত নথির উপরেই নির্ভর করতে পারবেন। ১৯ জানুয়ারির নির্দেশিকায় যে নথিগুলি তালিকাভুক্ত রয়েছে, কেবল সেগুলিই গ্রহণযোগ্য।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উল্লেখ
চিঠিতে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশের কথাও উল্লেখ করেছে কমিশন। আদালত জানিয়েছে, এসআইআরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নথির বাইরে কিছু গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের দেওয়া জমি বা বাড়ির শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হলেও আবাস প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার অনুমোদনপত্র তার আওতায় পড়ে না।
এখন কী হবে?
রাজ্যে এসআইআরের শুনানি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে জমা পড়া নথির যাচাই। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। যাঁরা শুনানিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে বিকল্প গ্রহণযোগ্য নথি চাওয়া হতে পারে।
চূড়ান্ত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কমিশন প্রথম থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় থেকে গেলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।