দেশ জুড়ে হঠাৎ করেই প্রিমিয়াম পেট্রলের দামে বৃদ্ধি করল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, লিটার প্রতি প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। তবে সাধারণ পেট্রলের দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি।
একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজ়েলের দামেও বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। লিটার প্রতি ২২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এই ডিজ়েলের দাম, যা শিল্পমহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ সরকারিভাবে জানানো না হলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব স্পষ্ট। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভিযোগ, ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়েই দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়। ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক আশ্বাস দিয়েছে যে বিকল্প পথেও তেল আমদানি চলছে এবং জোগানে কোনও বড়সড় ব্যাঘাত ঘটেনি।
এইচপিসিএল জানিয়েছে, একাধিক তেলবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই পথে রয়েছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যদিও বর্তমানে তা কিছুটা কমে ১০৫ ডলারে নেমেছে, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রিমিয়াম পেট্রল সাধারণত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বা বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের জ্বালানি ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ও মাইলেজ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এই দামের বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর সরাসরি বড় প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন অনেকেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয়, তা হলে আগামী দিনে জ্বালানির দামে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।